৫ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশকে 'নিরাপদ' ঘোষণায় কঠিন হতে পারে ইউরোপে আশ্রয়


                                        অভিবাসন, প্রতীকী ছবি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সাতটি দেশকে 'নিরাপদ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মাঝে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ছয়টি দেশের মধ্যে রয়েছে কসোভো, কলম্বিয়া, মিশর, ভারত, মরক্কো এবং তিউনিশিয়া।

উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, এসব দেশ থেকে যাতে ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।

ইউরোপীয় কমিশনের দিক থেকে বলা হয়েছে, গত বছর সিদ্ধান্ত নেওয়া 'অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি'র কিছু দিকের বাস্তবায়ন দ্রুত গতিতে করার প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এই সাত দেশ থেকে যাওয়া নাগরিকদের আবেদনগুলো ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন ধারণা থেকেই তাদের আবেদন তিন মাসের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসন প্রত্যাশীরা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। যদিও এর মাঝে বড় একটা অংশের আবেদন নাকচ হয়ে যায়। এখন সেই বিষয়টি আরও দ্রুত গতিতে হবে এবং আবেদন নাকচ হলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

অবশ্য ইউরোপীয় কমিশনের মার্কুস লামার্ট বলেছেন, এটি একটি 'ডায়নামিক' বা 'গতিশীল তালিকা' হবে, যা সময়ে সময়ে পর্যালোচনা ও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে এবং কোনো দেশকে নিরাপদ না মনে হলে, তা স্থগিত বা বাদ দেওয়া যেতে পারে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

২০১৫-১৬ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের পর থেকেই আশ্রয় নীতিতে সংস্কার করার চেষ্টা চলছে। ২০২৩ সালেও প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অবৈধ অভিবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের সীমান্ত পার করে প্রবেশ করেছে।

এমন বিষয় নিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচনা-মুলোমুলির পর গত বছর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অভিবাসন এবং আশ্রয় বিষয়ক আইন কঠোর করে একটি বড় সংস্কার অনুমোদন করে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এ সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল যেটি ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ইইউ জানিয়েছে যে তারা প্রক্রিয়ার কাজ দ্রুত করার জন্য দুটি মূল নিয়ম আগেই পাস করতে চায়।

ইউরোপীয় কমিশন এই প্রস্তাব দিয়েছে "যাতে করে যেসব আশ্রয় আবেদন সম্ভবত অমূলক (ভিত্তিহীন) হবে, সেগুলো দ্রুত ও দক্ষভাবে নিষ্পত্তি করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করা যায়"।

এর একটা কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অভিবাসন প্রত্যাশীদের যাদের দেশে ফেরত যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়, তাদের মাত্র ২০ শতাংশেরও কম সংখ্যক মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তাই গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা কমিশনকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তারা অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা তৈরি করে।

দুটি দিক আগেই কার্যকর করার কথা বলছে সেগুলো হচ্ছে––

১. যেসব দেশ থেকে আবেদনকারীদের মধ্যে গড়ে ২০ শতাংশ বা এর কম কম আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পায় সেসব দেশের মানুষের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো 'সীমান্ত প্রক্রিয়া' বা 'দ্রুত প্রক্রিয়া' ব্যবহার করতে পারবে।

২. কিছু ব্যতিক্রম রেখে নিরাপদ তৃতীয় দেশ ও নিরাপদ উৎস দেশ চিহ্নিত করা যাবে যাতে করে নির্দিষ্ট অঞ্চল বা স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য ব্যক্তিদের বিভাগ বাদ দিয়ে ইউরোপের সদস্য দেশগুলোর জন্য কাজ সহজ করা যায়।

ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলছেন, "যেখানে আমরা দ্রুত এগোতে পারি, সেখানে আমাদের আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়া উচিত। অনেক সদস্য রাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জমা পড়ে (আটকে) রয়েছে, ফলে আমরা আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুতগতিতে নিতে যেভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব তা করাটা অপরিহার্য"।


No comments:

Post a Comment

 জাপান অফার সেল  জাপান অফার সেলস টু মিলিটারি ওয়েপনস টু বাংলাদেশ